তাজপুর বাঙালির অন‍্যতম প্রিয় একটি সমুদ্র সৈকত। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির বর্তমানে অন‍্যতম আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে এই তাজপুর সমুদ্র সৈকত। 

● অবস্থান – 

পশ্চিমবঙ্গের পূর্বমেদিনীপুর জেলার একটি সমুদ্রসৈকত তাজপুর। সমুদ্রসৈকতটি বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

পশ্চিমবঙ্গের অন‍্যতম পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি ও শঙ্করপুরের মাঝে অবস্থিত এই তাজপুর সমুদ্রসৈকতটি। 

তাজপুরের নিকটবর্তী রেলস্টেশন রামনগর। কলকাতা থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৮০কি.মি। আর পশ্চিমবঙ্গের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র দীঘার থেকে তাজপুর সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব মাত্র ১৭কি.মি। 

● কী কী দেখবেন – 

দীঘার থেকে তুলনামূলক কম জনপ্রিয় এই তাজপুর বীচটি। তাই যারা একটু নির্জন সৈকতে সমুদ্রকে উপভোগ করতে চান তাদের জন‍্য অন‍্যতম আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র এই তাজপুর। 

তাজপুর সমুদ্র সৈকতের পাশে সাইপ্রাস ফরেস্ট ও পর্যটনদের বেশ নজর কাড়ে। গাছপাগল বাঙালি তো বটেই, সেলফি বা ছবি তুলতে কিংবা নিরিবিলিতে নিজেদের মধ‍্যে সময় কাটাতে ঘুরতেই পারেন সমুদ্রের ধারে এই সাইপ্রাসের জঙ্গলে। 

   মাত্র ২কি.মি দূরে রয়েছে চাঁদপুর সমুদ্র সৈকতটি। ইচ্ছে হলে প্রিয়জনদের সঙ্গে সমুদ্রকে পাশে রেখে হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে আসতে পারেন এই চাঁদপুর বীচটিতে। 

এছাড়া, তাজপুরে পর্যটনদের আকর্ষণে প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র ও পরিস্কার সমুদ্রে পিসিকালচার‌ অন‍্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। 

তবে, প্রকৃতিপ্রেমিক বাঙালি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে উপভোগ‍্য হয়ে উঠবে ভোরের তাজপুর সমুদ্রের সূর্যোদয়, সমুদ্র সৈকতের বালির ওপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা আর জলধা সৈকতে বালির ওপরে বাঁশের ছাউনি দেওয়া দোকানে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে চায়ের চুমুক দেওয়া।

এছাড়া, তাজপুর সৈকতের দুইপাশে রয়েছে দুটি পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমনি, ১০কি.মি দূরে ও শঙ্করপুর ৩কি.মি দূরে। মাছের লোভে শঙ্করপুর আর কেনাকাটার জন‍্য মন্দারমণি ঘুরেই আসতে পারেন। 

★ দীঘা ও পাশ্ববর্তী এলাকায় ঘোরার জন‍্য ভ্রমণ গাইডের রুট ম‍্যাপ দেখে এলাকাগুলির দূরত্ব বুঝে নিন – দীঘার দর্শনীয় স্থান

● কীভাবে যাবেন – 

পশ্চিমবঙ্গের অন‍্যতম জনপ্রিয় তাজপুর সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণের জন‍্য আপনি গাড়ি, বাস ট্রেন তিনটি মাধ‍্যম‌ই পেতে পারবেন। 

৹ বাস – 

কলকাতার ধর্মতলা থেকে, হাওড়ার ধূলাগড় থেকে অথবা যেকোনো স্থানের দীঘাগামী বাস ধরে বালিসাই মোড়ে নামতে হবে। বালিসাই থেকে অটো, টোটো অথবা রিক্সা ধরে পৌঁছে যাবেন তাজপুর সৈকতে। 

৹ ট্রেন – 

তাজপুরে কোনো রেল স্টেশন নেই। তাজপুরের নিকটবর্তী রেলস্টেশন রামনগর। তাই হাওড়া থেকে ট্রেনে রামনগর নেমে ওখান থেকে গাড়ি বা অটোতে পৌঁছে যাবেন তাজপুরে। 

তবে তাজপুর ভ্রমণের জন‍্য আপনি ব‍্যক্তিগত গাড়িও বেছে নিতে পারেন।

● কখন যাবেন – 

তাজপুর ভ্রমণে যেকোনো সময়েই যেতে পারেন। তবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা যেহেতু তুলনামূলক গরম থাকে তাই গরমকাল কাটিয়ে যাওয়াই ভালো আর তারপরও যেতে হলে এসি রুম নিয়ে নিন ।  তাজপুর ভ্রমণে পর্যটকরা সাধারণত ভিড় জমায় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। 

আর চাকুরিজীবীদের জন‍্য তাজপুর তোলা থাকে শনিবার, রবিবার কিংবা কোনো ছুটির দিন। তাই ব‍্যবসায়ী মানুষেরা তাজপুরের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করার জন‍্য বেছে নিতে পারেন সপ্তাহের মাঝের দিনগুলিকে। 

● কোথায় থাকবেন – 

তাজপুরে হোটেল পাবেন না, সমুদ্র তীরবর্তী কোনো থাকার জায়গা নেই। তবে অবশ‍্য‌ই বেশ কিছু রিসর্ট আছে তাজপুর সমুদ্র থেকে অনতিদূরেই, যেখান থেকে পায়ে হেঁটে অথবা টোটো নিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন তাজপুর বীচে। রিসর্টগুলিতে রুম ভাড়া মাথাপিছু ১৫০০ – ৩০০০ এর মধ‍্যে পেয়ে যাবেন। 

 সুবিধার জন‍্য কিছু রিসর্ট ও তার ফোন নম্বর দেওয়া হল – 

১) Lake view resort – ৯০৮৩২৭৭২৫৫

২) মল্লিকা রিসর্ট – ৯৬৭৪৭৬০৯৪২

৩) প্রতীকা রিসর্ট – ৯৮৮৩২৬৬০৬৩

৪) রিসর্ট অবসর – ৯৭৩৩৭৪৫৩১৯/

     ৯৩২৬৬৪৮২৫৪

৫) স্পন্দন রিসর্ট – ৯৮৩০২৪০৬৫২/

৯৮৩০১৩৫৭৩৬

৬) কৃষ্টি রিসর্ট – ৮৩৩৬৯৩৪০৯০

৭) moon view – ৯০৫১৩৩০২৪৮

৮) La plage resort – ৯০০৭০৭৭৯৯৯

● সতর্কতা – 

৹ যেহেতু তাজপুর তুলনামূলক নির্জন সৈকত, তাই দোকানপাট প্রায় নেই বললেই চলে। তাই টুকটাক চা ছাড়া খাবারের জন‍্য আপনাকে মূলত রিসর্টগুলোর প‍্যাকাজের ওপরেই নির্ভর করতে হবে। 

তবে সমুদ্রের পাশে কাঁকড়া ও কিছু মাছের দোকান পেয়েই যাবেন। 

কিন্তু ঘরসাজানোর কেনাকাটার জন‍্য কোনো দোকান তাজপুরে পাবেন না। 

৹ তাজপুর নির্জন হ‌ওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবার প্রবণতা বেশি আর মদের দোকানের বাহুল‍্য‌ও। তাই মদ, মদের দোকান এবং মদ‍্যপ ব‍্যক্তি থেকে সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। 

৹ এছাড়া, সৈকতে গাড়ি চালানো, মদ‍্যপ অবস্থায় রোমাঞ্চকর কিছু করার নেশা এবং সন্ধ‍্যায় একা সমুদ্র যাপন থেকে বিরত থাকাই ভালো।  

প্রকৃতিকে নষ্ট করে নয়, প্রকৃতিকে উপভোগ করতে ঘুরে আসুন লাল কাঁকড়া, সাইপ্রাসের দেশ তাজপুরে আর এই ধরণের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের খুঁটিনাটা জানতে সঙ্গে রাখুন ভ্রমণ.গাইড