ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ে ঘেরা গ্রাম Kongthong । Kongthong গ্রাম তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য ‘সুরের গ্রাম’, ‘শিসের গ্রাম’ বা whistling village নামে পরিচিত । ২০২১ এ বিশ্ব ভ্রমণ সংস্থা UNWTO সুরের গ্রাম Kongthong কে Best Tourism village এর তালিকায় অন্তভূর্ক্ত করেছে । 

অবস্থান –  

মেঘালয়ের রাজধানী শহর শিলং থেকে ৬৫ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে পূর্ব খাসি পাহাড়ের খুবই প্রত্যন্ত একটি গ্রাম Kongthong । পূর্ব খাসি পাহাড়ের অবস্থিত পৃথিবীর সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের শহর চেরাপুঞ্জি Kongthong গ্রামের খুব কাছেই অবস্থিত । 

কী কী দেখবেন – 

  • Jingrawai Lawbei Whistling ভাষা – 

Kongthong গ্রামের মানুষ স্থানীয় খাসি ভাষায় কথা বলেন । খাসি ভাষা ছাড়াও তাদের আর একটি নিজস্ব ভাষা আছে , একে Jingrawai Lwabei বলা হয় । Kongthong গ্রামের প্রতিটি বাসিন্দার একটি করে সাধারন নাম আছে যা সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয় । আর নিজেদের মধ্যে একে অপরকে ডাকা হয় Jingrawai Lawbei ভাষায় । 

Kongthong গ্রামের কোন মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর , মা তার সন্তানকে Jingrawai Lawbei ভাষায় একটি নাম দেয় । নামটি আসলে শিসের মতো ইউনিক একটি সুর । একে সন্তানের জন্য মায়ের ভালবাসার সুর বলা যেতে পারে । ইউনিক সুরটি বাঙালিদের ঘুম পাড়ানির গানের মতো মা তার শিশুর জন্য বারবার গেয়ে থাকেন , সুরটি শুনেই শিশু বড় হতে থাকে , সুরের মাধ্যমে মায়ের আত্মা শিশুর আত্মার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । সুরের নামগুলির বেশিরভাগই  Kongthong এর বিভিন্ন রকম পাখির ডাক অনুসরণ করে তৈরি । 

Kongthong গ্রামের ৭০০ গ্রামবাসীর প্রত্যেকেই তার মায়ের কাছ থেকে একটি করে ইউনিক সুরের নাম পেয়েছে । সুরের নামগুলির আবার দুটি ভার্সান হয় , একটি ছোট ভার্সান আর একটি বড় ভার্সান । ছোট সুরের নামটি তারা সচারচার একে অপরকে ডাকতে ব্যবহার করে আর বড় নামটি জঙ্গলের মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করে । 

আপনি Kongthong গ্রামে ঘুরতে গেলে এদিক ওদিক থেকে বিভিন্ন রকম পাখির ডাকের মতো সুরের শিস শুনতে পাবেন , ধরতেই পারবেনই কোনটি পাখির মুখ থেকে বেড়িয়ে আসছে কোনটি মানুষের মুখ থেকে । Kongthong গ্রাম তাই ভারতের সুরের গ্রাম আর এটিই এখানকার ভ্রমণকারীদের প্রধান আকর্ষণ । 

  • Kongthon গ্রাম ঘুরে দেখলেই আপনার অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবে । আধুনিক সভ্যতা থেকে দূরে আপনি মানবসভ্যতার শিকড়ের সন্ধান পেতে পারেন । 
  • Kongthon গ্রামের আশেপাশেই  আপনি একটি জীবন্ত শিকড়ের সেতু ( Living root bridge ), পৃথিবীর সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের শহর চেরাপুঞ্জি ,   Elephant Falls , Nohkalikai Falls, Mawsmai Cave, Mawkdok Dympep Valley, Laitlum Canyon, Wah Kaba Falls দেখতে যেতে পারেন । তবে যেহেতু পাহাড়ি ও দূর্গম পথ তাই সুরের গ্রামের সাথে জায়গাগুলিতে যেতে হলে আপনাকে আগে থেকে হোম ওয়ার্ক ও গাইডের সাহায্য নিতে হবে । 
  • সুরের গ্রাম মৌমাছি পালনের জন্য বিখ্যাত । আপনি এখানে স্থানীয় পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন দেখতে পারেন ও প্রিয়জনদের জন্য বিশুদ্ধ মধু কিনে আনতে পারেন । 

কীভাবে যাবেন – 

আপনাকে প্রথমে শিলং যেতে হবে । শিলং থেকে গাড়ি ভাড়া করে Thangtim , তারপর পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে ১০ কিমি সুরের গ্রাম । আপনি চেরাপুঞ্জি থেকেই Kongthong যেতে পারেন । 

কখন যাবেন – 

অক্টোবর থেকে মে Kongthong গ্রাম ঘোরার আদর্শ সময় । বাঙালিদের জন্য সুরের গ্রামে ঘুরতে যাওয়া বেশ সময় অর্থ ও কষ্টের ব্যাপার তাই শুধু সুরের গ্রামে ঘুরতে না এসে মেঘালয়ের অন্যান্য কিছু পছন্দের জায়গাও ভ্রমণ লিস্টে রেখে তবে আসুন । সুরের গ্রামের জন্য দুই রাত বরাদ্দ রাখুন । 

কোথায় থাকবেন – 

অনেকেই সকালে Kongthong গিয়ে বিকালের মধ্যে ফিরে আসেন , কিন্তু সাধারন ভ্রমণকারীদের জন্য এটি খুবই কষ্টসাধ্য হবে । ভ্রমণ গাইডের সাজেশন Kongthong গ্রামের নিজস্ব হোমষ্টেতে দুই রাত কাটিয়ে আসুন । 

যারা প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন , নির্জনতা ভালোবাসেন তাদের Kongthong গ্রাম খুব ভালো লাগবে , সাথে উপরিপাওনা হিসাবে সুরের গ্রাম থেকে একটি সুরের নাম উপহার পেতে পারেন , যেমন খুব সাম্প্রতিক ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেয়েছেন । 

– রাহুলদেব বিশ্বাস