Home

  • দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে পায়ে হেঁটে কী কী দেখবেন ? ভ্রমণ গাইড

    দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে পায়ে হেঁটে কী কী দেখবেন ? ভ্রমণ গাইড

    দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে পায়ে হেঁটে কী কী দেখবেন ?

    পাহাড় কমবেশি সকলকেই টানে। পাহাড়ি পথে যেতে যেতে গাড়ির জানলা থেকে ভিডিও করছনি এমন লোক প্রায় নেই বললেই চলে। আবার পাহাড়ি পথ ধরে হাঁটতেও ভালো লাগে। পাহাড় এমন একটা জায়গা যেখানে একার সঙ্গে সময় কাটানো যায়। পাহাড়ি নির্জন পথে হাঁটা তাই অনেকের স্বপ্ন। তবে পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে হঠাৎ কোনো ইতিহাসের মধ‍্যে ঢুকে পড়া কিংবা পশু পাখির খেলা উপভোগ করতে পারাও কম আনন্দের নয়। আর বাঙালির কাছে পাহাড় বললে তো প্রথমেই মন পৌঁছে যায় দার্জিলিঙে। দার্জিলিঙের পাহাড়ি রাস্তায় পায়ে হেঁটে হেঁটেই আপনি দেখে ফেলতে পারেন বেশ কতকগুলি জায়গা। ভ্রমণ গাইড আপনার সুবিধার জন‍্য সেইসব দর্শনীয় স্থানগুলি ও দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে তার দূরত্বের একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে।

    দার্জিলিং এর আবেগ এই দার্জিলিং ম‍্যাল, যা আসলে দার্জিলিং এর কেন্দ্র, আর গোদা বাংলায় চৌরাস্তা। যার একদিকে রয়েছে পুরানো বাড়ি আর অন‍্যদিকে পাইন গাছের সারি। তবে এখন পাইন গাছ লুপ্ত হয়ে সেখানে জন্ম নিয়েছে ক‍্যাফে, রেস্টুরেন্ট ইত‍্যাদি। তবুও ঢালু রাস্তা, পিছনের গ্রাম, স্থানীয় মানুষ আর সবাইকে আগলে কাঞ্চনজংঘা – সব মিলিয়ে সমস্ত দার্জিলিং এর একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ এই দার্জিলিং ম‍্যাল। এই দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে একটা বড় কফি নিয়ে উত্তরে বা দক্ষিণে হাঁটতে শুরু করলেই বেশ কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের সঙ্গে আপনার পরিচয় ঘটবে –

    ■ দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে উত্তরে যেসব স্থান গুলি আছে তাদের পরিচয় ও দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে দূরত্ব দেওয়া হল –
    ১) মহাকাল মন্দির – (৩০০মি.)
    ২) ভানুভবন (৩০০মি.)
    ৩) সেন্ট অ্যান্ড্রুজ চার্চ (৪০০মি.)
    ৪) ওবজারভেটরি ভিউ পয়েন্ট (৬৫০মি.)
    ৫) নাইটেঙ্গল পার্ক (১.২কি.মি)
    ৬) পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানা (২.১কি.মি)

    ■ দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে দক্ষিণে যেসব স্থান গুলি আছে তাদের পরিচয় ও দার্জিলিং ম‍্যাল থেকে দূরত্ব দেওয়া হল –
    ১) ক‍্যাপিটাল হল (৬০০মি.)
    ২) ক্লক টাওয়ার – (৬৫০মি.)
    ৩) হিমালয়ান তিব্বতি মিউজিয়াম – (৬৫০মি.)
    ৪) রাজভবন (৮৫০মি.)
    ৫) লিওড বোটানিক‍্যাল গার্ডেন (১.২কি.মি)
    ৬) জাপানিজ বুদ্ধিস্ট টেম্পল বা
          পিস প‍্যাগোডা (২.৪কি.মি)
    ৭) লালকুঠি (৩.৫কি.মি)

  • কলকাতায় একদিন ~ পর্ব – ১| ভ্রমণ গাইড

    কলকাতায় একদিন ~ পর্ব – ১| ভ্রমণ গাইড

    কলকাতায় একদিন ~ পর্ব ১

    ডিসেম্বর মানেই রবীন্দ্র সদন


    ডিসেম্বর এসেছে, সোয়েটার টুপি মোজা বেরিয়েছে, এবার পালা বেড়াতে যাবার। নলেনগুড়ের রসগোল্লা, জয়নগরের মোয়া, রকমারি কেকের সঙ্গে হুজুগে বাঙালির কাছে শীতকাল মানেই মন ঘুরুঘুরু। আর যেহেতু এইসময় বাড়ির বাচ্চাদের পরীক্ষাও শেষ হয়ে যায় তাই ফ‍্যামিলি নিয়ে একবার কলকাতা সফর হয়েই যায়। আর একদিনে কলকাতার অনেককিছু দেখতে হলে চলে আসুন কলকাতার কেন্দ্র – রবীন্দ্রসদনে।

    হাওড়া বা শিয়ালদহ স্টেশনে নেমে কালীঘাট বা হেস্টিংসগামী যেকোনো বাসেই ২০- ৩০মিনিটের মধ‍্যে পৌঁছে যেতে পারেন রবীন্দ্রসদন।
    অথবা ধূলাগড় সাঁতরাগাছি থেকে দ্বিতীয় হুগলি সেতু পেরিয়েও হেস্টিংস পি.টি.এস ধরে চলে আসতে পারেন রবীন্দ্রসদনে।

    কী কী দেখবেন

    ১) আলিপুর চিড়িয়াখানা
    ২) জাতীয় গ্রন্থাগার
    ৩) ভিক্টোরিয়া
    ৪) মোহরকুঞ্জ
    ৫) নন্দন
    ৬) রবীন্দ্র ভবন
    ৭) গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শনশালা
    ৮) অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস
    ৯) সেন্ট পলস ক‍্যাথিড্রাল
    ১০) বিড়লা প্ল‍্যানেটোরিয়াম
    ১১) অরবিন্দ ভবন
        
           রবীন্দ্রসদনে এসে এই দশটি জিনিস আপনি পাবেন দেখার এবং উপভোগ করার জন‍্য। ভ্রমণগাইডের পক্ষ থেকে এই দশটি স্থান নিয়ে থাকল সংক্ষিপ্ত আলোচনা। আপনি আপনার অবস্থান ও পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো এক বা একাধিক স্থান সিলেক্ট করে আপনার কলকাতা সফর প্ল‍্যান করতেই পারেন –

    ১) আলিপুর চিড়িয়াখানা


    হেস্টিংস থেকে জিরাট সেতু ধরে এগোলে ডানদিকেই পড়বে আলিপুর চিড়িয়াখানার প্রবেশদ্বার।
      

    উনবিংশ শতাব্দীতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পশু উদ‍্যান গড়ে উঠতে থাকলে ব্রিটিশরা কলকাতায় একটি পশু উদ‍্যান করার পরিকল্পনা নেন। সেই ভাবনা থেকেই কালক্রমে আলিপুরে গড়ে ওঠে এই চিড়িয়াখানা। ১৮৭৬ সালের ১লা জানুয়ারি প্রিন্স অফ ওয়েলস সপ্তম এড‌ওয়ার্ড আলিপুর চিড়িয়াখানার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। প্রথমদিকে ভারতীয় রেল‌ওয়ে স্টেশনে কর্মরত জার্মানি ইলেকট্রিশিয়ান লুইস সোয়েন্ডলারের ব‍্যক্তিগত পশুসংগ্রহ নিয়েই চিড়িয়াখানা সাজানো হয়েছিল। পরবর্তীকালে সাধারণ জনগণ ও চিড়িয়াখানার কর্মকর্তাদের প্রয়াসে আরো আকর্ষণীয় ও উন্নত করে তোলার প্রয়াস চলছে।

    খোলার সময় – প্রতিদিন – সকাল ৯ টা থেকে ৪.৩০মি।

    ২) জাতীয় গ্রন্থাগার

    আলিপুর চিড়িয়াখানা থেকে একটু এগোলেই চোখে পড়বে কলকাতার ঐতিহ‍্য সুপ্রাচীন ও সুবিশাল জাতীয় গ্রন্থাগার।
        

    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠাকুর্দা প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ১৮৩৬ সালে গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠা করেন। ফোর্ট উইলিয়ম কলেজ লাইব্রেরির ৪৬৭৫টি ব‌ই নিয়ে শুরু হয় এর পথ চলা ক‍্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি নামে। এরপর ১৯০৩ সালে লর্ড কার্জন ইম্পেরিয়াল লাইব্রেরির সঙ্গে একে যুক্ত করে দেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় লাব্রেরির ঠিকানা বদলে যায় এসপ্ল‍্যানেড। স্বাধীনতার পর আবার আলিপুরে ফিরে আসে, নাম হয় জাতীয় গ্রন্থাগার বা ন‍্যাশানাল লাইব্রেরি। ১৯৫৩ সালে ১লা ফেব্রুয়ারি তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী মৌলানা আবুল কালাম আজাদ লাইব্রেরিকে সকলের জন‍্য উন্মুক্ত করে দেন।

    ৩) ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল

    ইংল‍্যন্ডের মহারাণী ভারতসম্রাজ্ঞী উপাধি প্রাপ্ত  ভিক্টোরিয়ার স্মৃতিসৌধ‌ই ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হল। এটি বর্তমানে পরাধীন ভারতের স্মৃতি বহন করে প্রদর্শনশালাতে পরিণত হয়েছে।মূল ভবন ছাড়া দুদিকে প্রবেশদ্বার থেকে ভেতরে ভবন পর্যন্ত দুটি প্রকান্ড জলাধার এবং উদ‍্যান আছে। সৌধের শিরে শিরোমণি হয়ে আছে একটি কালো ব্রোঞ্জের বিজয়মূর্তি আর হাওয়া মোরগ।
    স্মৃতি সৌধটির নির্মাণকার্য শুরু হয়েছিল ১৯০৬খ্রি:, উদ্বোধন হয় ১৯২১খ্রি:। সৌধটির নকশা প্রস্তুত করেন উইলিয়ম এমারসন এবং সৌধ সংলগ্ন বাগানের নকশা প্রস্তুত করেন জন প্রেইন এবং লর্ড রেডেসডেল।

    ★ খোলার সময় -প্রতিদিন – সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা।

    ৪) মোহরকুঞ্জ
            

    ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল হলের ঠিক পাশেই অবস্থিত মোহরকুঞ্জ, যার পূর্ব নাম সিটিজেন্স পার্ক। ২০০৫ সালে কলকাতা পৌরসংস্থা এটি তৈরি করে নাম দেন সিটিজেন্স পার্ক, যা মূলত শহরের ইট পাথরের মধ‍্যে আটকে পড়া বয়স্কদের প্রাণকেন্দ্র হিসাবে তৈরি করা হয়। পরবর্তীকালে, ২০০৭ সালে প্রথিতযশা রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী কণিকা বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়ের ডাক নাম মোহর অনুসারে উদ‍্যানের নামকরণ করা হয় মোহরকুঞ্জ। উদ‍্যানে নানারকম ফুল গাছের দেখা মিললেও প্রধান আকর্ষণ গানের তালে চলতে থাকা রঙিন ফোয়ারা। তাই মোহরকুঞ্জর মূলত সন্ধেবেলায় নয়নাভিরাম হলেও বিকালে বিশ্রাম নেবার জন‍্য কিংবা একসঙ্গে অনেকে মিলে আড্ডা দেবার জন‍্য‌ও উপযুক্ত।

    খোলার সময় –

    প্রতিদিন – সকাল ৫টা থেকে ৯টা
       বিকাল ৩টে থেকে সন্ধে ৮টা।

    ৫) – ৮) নন্দন ও অন‍্যান‍্য
          

    মোহরকুঞ্জের ঠিক বিপরীতেই পেয়ে যাবেন নন্দন, নন্দন কলকাতার সংস্কৃতির পীঠস্থান। এখানে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব সহ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান‌ও বিভিন্ন সময় বিশেষত শীতকালে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন‍্য তিনটি প্রেক্ষাগৃহ আছে।

    পশ্চিমবঙ্গ সরকার কর্তৃক নন্দন প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৫সালের ২রা সেপ্টেম্বর। নন্দন প্রতীকচিহ্ন অঙ্কন ও দ্বারোদঘাটন করেন প্রখ‍্যাত চিত্রপরিচালক সত‍্যজিৎ রায়। নন্দনের মধ‍্যেই রয়েছে  মূলত রবীন্দ্র সঙ্গীতচর্চাকে কেন্দ্র করে রবীন্দ্র ভবন। এছাড়া নন্দনের একপাশে রয়েছে চিত্রকলা ও ছবি প্রদর্শনী কেন্দ্র গগনেন্দ্র শিল্প প্রদর্শন শালা এবং অপরদিকে রয়েছে অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টস যেখানে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রদর্শনী ও অনুষ্ঠান হয়ে থাকে। কলকাতাসহ বিভিন্ন প্রান্তের সংস্কৃতিপিপাসু মানুষের কাছে পীঠস্থান বলা যেতে এই নন্দন চত্বর।

    ৯) সেন্ট পলস ক‍্যাথিড্রাল

    অ্যাকাডেমি অব ফাইন আর্টস পেরিয়ে ময়দানের দিকে এগোলেই ডানদিকে সেন্ট পলস ক‍্যাথিড্রাল।

    ব্রিটিশরা তাদের অন্তর্গত বিদেশি রাষ্ট্রগুলিতে যেসব ক‍্যাথিড্রাল গঠন করে তাদের মধ‍্যে এটি প্রথম। উইকিপিডিয়া অনুযায়ী, এটি কলকাতার বৃহত্তম ক‍্যাথিড্রাল এবং এশিয়ার বৃহত্তম এপিস্কোপিক‍্যাল চার্চ। চার্চটির ভেতরে একটি প্রদর্শনশালা ও একটা বাগান আছে। তাছাড়া,বড়দিনের মরশুমে চার্চগুলি নানাভাবে সেজে ওঠে। তাই রবীন্দ্রসদনে এলে কিছুটা সময় আপনি এখানে কাটাতেই পারেন।

    ১০) বিড়লা প্ল‍্যানেটোরিয়াম

    সেন্ট পল ক‍্যাথিড্রাল থেকে বেরোলে সামনেই পেয়ে যাবেন এশিয়ার বৃহত্তম তারামন্ডল – এম.পি বিড়লা প্ল‍্যানেটোরিয়াম। এটি আসলে একটি মহাকাশ চর্চা কেন্দ্র ও জাদুঘর। ১৯৬৩ সালে ত‍ৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জ‌ওহরলাল নেহেরু এটির উদ্বোধন করে। সাঁচীর বৌদ্ধস্তূপের আদলে নির্মিত এই একতলা ভবনটি। তারামন্ডলের মূল আকর্ষণ মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। এখানে দিনের বিভিন্নসময় বিভিন্ন ভাষায় (ইংরাজি, বাংলা ও হিন্দি) মহাকাশকেন্দ্রিক বিষয়গুলি প্রদর্শিত হয়। তবে ছুটির দিনে অন‍্যান‍্য ভাষাতেও প্রদর্শন চলে। এছাড়া বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি ও জ‍্যোতির্বিজ্ঞানের ওপর গ‍্যালারি রয়েছে। বাচ্চাদের তো বটেই ছাত্রছাত্রী এমনকি বড়দের‌ও একটি অন‍্যতম প্রধান আকর্ষণ থাকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্ল‍্যানেটোরিয়ামটি।এখানে মহাকাশ বিজ্ঞান সম্পর্কিত একটি ফ্রি কোর্সের‌ও ব‍্যবস্থা আছে আগ্রহীদের জন‍্য।

    ১১) অরবিন্দ ভবন

    রবীন্দ্র সদন চত্বর পেরিয়ে থিয়েটার রোড ধরলেই ৮নং শেক্সপীয়র সরণিতে পেয়ে যাবেন পাঁচিল ঘেরা একটি বাড়ি, যার দরজার মাথায় লেখা আছে অরবিন্দ ভবন। ঋষি অরবিন্দ জন্মগ্রহণ করেছিলেন এখানে, তবে এটা ছিল আসলে তার বাবার বন্ধু বাড়ি। পরবর্তীকালে অরবিন্দর বাল‍্যস্মৃতি জড়িত এই ভবনটি ভারতের স্বাধীনতা ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নানা ইতিহাসের সাক্ষী থেকে বর্তমানে পরিচিত হয়েছে অরবিন্দ ভবন নামে।
    ভবনে ঢুকলেই প্রথমে পাওয়া যাবে সুপ্রাচীন অশ্বত্থ গাছটি আর বামদিকে শ্রী অরবিন্দের ছবি, ব‌ই, ম‍্যাগাজিন, ফুল ধূপের দোকান।
    বাড়ির অন্দরমহলের নীচের তলায় আছে লাইব্রেরি, লাইব্রেরি পেরোলেই চোখে পড়বে সাদামার্বেলের ওপর ফুল দিয়ে সাজানো ক্ষেত্রটি, যেটি শ্রী অরবিন্দের পার্থিব অস্থির সমাধিস্থান। শান্ত সৌম‍্য এমন পরিবেশে পারলে কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থাকবেন, মনে শান্তি আসবে। সমাধির সামনেই দেখতে পাবেন পদ্মফুল পরিবেষ্টিত একটি কৃত্রিম পুকুর। এরপর বেশ পুরানো একটি সিঁড়ি পেরিয়ে দোতলায় পৌঁছালে দেখবেন চিত্রপ্রদর্শনীশালা।

    এছাড়া বাড়িটিতে একটি সাংস্কৃতিকচর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে, যা ‘অহনা’ নামক একটি কালচারাল গ্রুপ দ্বারা পরিচালিত। তাই রবীন্দ্রসদন বেড়াতে এলে একটু হেঁটে ঘুরে আসুন অরবিন্দ ভবনেও।

    ভ্রমণ গাইডের পক্ষ থেকে আপনার জন‍্য বড়দিনের এই বিশেষ উপহার, যেখানে রবীন্দ্রসদনের দর্শনীয় স্থানগুলি নিয়ে সংক্ষেপে পরিচয় করানো হল, যার কোথাও রয়েছে ইতিহাসের গন্ধ কোথাও প্রকৃতির কোথাও আবার বিজ্ঞানের। সব মিলিয়েমাত্র আধঘন্টার দূরত্বের পরিসরের মধ‍্যেই পেয়ে যাবেন এই এগারোটি জায়গা। এবার পছন্দ অনুযায়ী কোনগুলি রাখবেন আপনার একদিনের বেড়ানোর তালিকায় সেটা বেছে নিন আর সামনের বড়দিনেই বেরিয়ে আসুন আপনার প্রিয় কলকাতা থেকে।  

    – রুমি

  • ঘুরে আসুন ভারতের সুরের গ্রাম কংঠং থেকে 

    ঘুরে আসুন ভারতের সুরের গ্রাম কংঠং থেকে 

    ভারতের মেঘালয় রাজ্যের পাহাড়ে ঘেরা গ্রাম Kongthong । Kongthong গ্রাম তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের জন্য ‘সুরের গ্রাম’, ‘শিসের গ্রাম’ বা whistling village নামে পরিচিত । ২০২১ এ বিশ্ব ভ্রমণ সংস্থা UNWTO সুরের গ্রাম Kongthong কে Best Tourism village এর তালিকায় অন্তভূর্ক্ত করেছে । 

    অবস্থান –  

    মেঘালয়ের রাজধানী শহর শিলং থেকে ৬৫ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে পূর্ব খাসি পাহাড়ের খুবই প্রত্যন্ত একটি গ্রাম Kongthong । পূর্ব খাসি পাহাড়ের অবস্থিত পৃথিবীর সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের শহর চেরাপুঞ্জি Kongthong গ্রামের খুব কাছেই অবস্থিত । 

    কী কী দেখবেন – 

    • Jingrawai Lawbei Whistling ভাষা – 

    Kongthong গ্রামের মানুষ স্থানীয় খাসি ভাষায় কথা বলেন । খাসি ভাষা ছাড়াও তাদের আর একটি নিজস্ব ভাষা আছে , একে Jingrawai Lwabei বলা হয় । Kongthong গ্রামের প্রতিটি বাসিন্দার একটি করে সাধারন নাম আছে যা সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয় । আর নিজেদের মধ্যে একে অপরকে ডাকা হয় Jingrawai Lawbei ভাষায় । 

    Kongthong গ্রামের কোন মেয়ে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর , মা তার সন্তানকে Jingrawai Lawbei ভাষায় একটি নাম দেয় । নামটি আসলে শিসের মতো ইউনিক একটি সুর । একে সন্তানের জন্য মায়ের ভালবাসার সুর বলা যেতে পারে । ইউনিক সুরটি বাঙালিদের ঘুম পাড়ানির গানের মতো মা তার শিশুর জন্য বারবার গেয়ে থাকেন , সুরটি শুনেই শিশু বড় হতে থাকে , সুরের মাধ্যমে মায়ের আত্মা শিশুর আত্মার সাথে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় । সুরের নামগুলির বেশিরভাগই  Kongthong এর বিভিন্ন রকম পাখির ডাক অনুসরণ করে তৈরি । 

    Kongthong গ্রামের ৭০০ গ্রামবাসীর প্রত্যেকেই তার মায়ের কাছ থেকে একটি করে ইউনিক সুরের নাম পেয়েছে । সুরের নামগুলির আবার দুটি ভার্সান হয় , একটি ছোট ভার্সান আর একটি বড় ভার্সান । ছোট সুরের নামটি তারা সচারচার একে অপরকে ডাকতে ব্যবহার করে আর বড় নামটি জঙ্গলের মধ্যে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে ব্যবহার করে । 

    আপনি Kongthong গ্রামে ঘুরতে গেলে এদিক ওদিক থেকে বিভিন্ন রকম পাখির ডাকের মতো সুরের শিস শুনতে পাবেন , ধরতেই পারবেনই কোনটি পাখির মুখ থেকে বেড়িয়ে আসছে কোনটি মানুষের মুখ থেকে । Kongthong গ্রাম তাই ভারতের সুরের গ্রাম আর এটিই এখানকার ভ্রমণকারীদের প্রধান আকর্ষণ । 

    • Kongthon গ্রাম ঘুরে দেখলেই আপনার অন্য রকম অভিজ্ঞতা হবে । আধুনিক সভ্যতা থেকে দূরে আপনি মানবসভ্যতার শিকড়ের সন্ধান পেতে পারেন । 
    • Kongthon গ্রামের আশেপাশেই  আপনি একটি জীবন্ত শিকড়ের সেতু ( Living root bridge ), পৃথিবীর সব থেকে বেশি বৃষ্টিপাতের শহর চেরাপুঞ্জি ,   Elephant Falls , Nohkalikai Falls, Mawsmai Cave, Mawkdok Dympep Valley, Laitlum Canyon, Wah Kaba Falls দেখতে যেতে পারেন । তবে যেহেতু পাহাড়ি ও দূর্গম পথ তাই সুরের গ্রামের সাথে জায়গাগুলিতে যেতে হলে আপনাকে আগে থেকে হোম ওয়ার্ক ও গাইডের সাহায্য নিতে হবে । 
    • সুরের গ্রাম মৌমাছি পালনের জন্য বিখ্যাত । আপনি এখানে স্থানীয় পদ্ধতিতে মৌমাছি পালন দেখতে পারেন ও প্রিয়জনদের জন্য বিশুদ্ধ মধু কিনে আনতে পারেন । 

    কীভাবে যাবেন – 

    আপনাকে প্রথমে শিলং যেতে হবে । শিলং থেকে গাড়ি ভাড়া করে Thangtim , তারপর পাহাড়ি পথে পায়ে হেঁটে ১০ কিমি সুরের গ্রাম । আপনি চেরাপুঞ্জি থেকেই Kongthong যেতে পারেন । 

    কখন যাবেন – 

    অক্টোবর থেকে মে Kongthong গ্রাম ঘোরার আদর্শ সময় । বাঙালিদের জন্য সুরের গ্রামে ঘুরতে যাওয়া বেশ সময় অর্থ ও কষ্টের ব্যাপার তাই শুধু সুরের গ্রামে ঘুরতে না এসে মেঘালয়ের অন্যান্য কিছু পছন্দের জায়গাও ভ্রমণ লিস্টে রেখে তবে আসুন । সুরের গ্রামের জন্য দুই রাত বরাদ্দ রাখুন । 

    কোথায় থাকবেন – 

    অনেকেই সকালে Kongthong গিয়ে বিকালের মধ্যে ফিরে আসেন , কিন্তু সাধারন ভ্রমণকারীদের জন্য এটি খুবই কষ্টসাধ্য হবে । ভ্রমণ গাইডের সাজেশন Kongthong গ্রামের নিজস্ব হোমষ্টেতে দুই রাত কাটিয়ে আসুন । 

    যারা প্রকৃতির মধ্যে সময় কাটাতে ভালোবাসেন , নির্জনতা ভালোবাসেন তাদের Kongthong গ্রাম খুব ভালো লাগবে , সাথে উপরিপাওনা হিসাবে সুরের গ্রাম থেকে একটি সুরের নাম উপহার পেতে পারেন , যেমন খুব সাম্প্রতিক ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পেয়েছেন । 

    – রাহুলদেব বিশ্বাস

  • তালসারি ভ্রমণ ~ ভ্রমণগাইড

    তালসারি ভ্রমণ ~ ভ্রমণগাইড

    তালসারি ভ্রমণ –

    সমুদ্র সৈকত ধরে এক রাজ‍্য থেকে আরেক রাজ‍্য যাবার আনন্দ নিতে হলে আপনাকে যেতে হবে বঙ্গ উৎকল উপকূলভূমিতে। ভাবছেন তো সেটা আবার কোথায় ? আমাদের সকলের প্রিয় উদয়পুর তালসারি সমুদ্র সৈকত। বঙ্গ অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের উদয়পুর সৈকত আর উৎকল অর্থাৎ উড়িষ‍্যার তালসালি সৈকত পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তৈরি করে চলেছে এক বঙ্গ উৎকলীয় সংস্কৃতি, আর সেটা উপভোগ করতে আপনাকে দীঘা পেরিয়ে উদয়পুর হয়ে পৌঁছাতে হবে তালসারিতে।

    তালসারি পশ্চিমবঙ্গের পার্শ্ববর্তী রাজ‍্য উড়িষ‍্যার বালেশ্বর জেলার অন্তর্গত। এটি বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী পর্যটনকেন্দ্র।

    ● নামকরণের ইতিহাস –
    উপকূলবর্তী এলাকা তালসারিতে তাল বা পাম এবং ঝাউগাছের আধিক‍্য একসময় প্রচুর পরিমাণে লক্ষ‍্য করা যেত। তাই ঝাউ বা পাম নয়, গ্রাম বাংলার চিরপরিচিত তাল গাছের সারি থেকে এলাকাটি তালসারি নামে পরিচিত হয়।

    ● দর্শনীয় স্থান –
    উৎকল বঙ্গের সংযোগস্থলে তালসারি একটি নির্জন সমুদ্র সৈকত। যারা একটু নিরিবিলিতে প্রকৃতির মাঝে সমুদ্র সান্নিধ‍্য উপভোগ করতে চান তাদের জন‍্য পছন্দের তালিকার প্রথমের দিকে রাখা যেতে পারে তালসারি ভ্রমণের কথা।

    ৹ সমুদ্র
    তালসারিতে বীচে অর্থাৎ সমুদ্রের পাড়ে দাঁড়িয়ে ভোরের সূর্যোদয় মন ভোলানো হলেও এর প্রধান আকর্ষণ বিকেলের সূর্যাস্ত আর আকাশের সঙ্গে সমুদ্রের রঙের খেলা। এই খেলা চলে দুপুর থেকে সন্ধে পর্যন্ত। আপনার ক‍্যামেরার চার্জ শেষ হয়ে যেতে পারে কিন্তু এখানকার মায়াবী প্রকৃতির পোজ শেষ হবে না, কথা দিলাম।

    ৹ ঝাউবীথি
    তবে তালসারির মাহাত্ম‍্য সমুদ্র নয়, সমুদ্রকে পাশে রেখে তালসারি বীচ বা বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকা তাল ও ঝাউগাছগুলি। মনের চোখ খোলা রাখলে অংশ নিতে পারবেন ওদের কথোপকথনে। ঠিক পাড়ার কাকিমাদের মতোই বসে বিকেলে ওদের আসর। ওদের সারির মাঝের সরু রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে শুনতে পাবেন তেলের দাম বা এস.এস.সি নয়, সভ‍্যতার আগের দিনগুলো ফিরে না পাবার আক্ষেপ।

    ৹ সুবর্ণরেখা নদী মোহনা –
    সমুদ্র আর ঝাউবন পেরিয়ে এগিয়ে গেলে পাবেন সুবর্ণরেখা নদীর ক্লান্ত ও উচ্ছৃসিত মোহনা। সুদূর ঝাড়খন্ড থেকে আসতে গিয়ে ক্লান্ত হলেও সমুদ্রের সঙ্গে মিলিত হবার উচ্ছাস কার না থাকে !

    ৹ বোট রাইড –
    তালসারি বীচেরর খেয়ালের সুরের সঙ্গে আপনার সুর মেলাতে সঙ্গী হবে নৌকাগুলোও। যখন জোয়ার তখন সমুদ্রের সঙ্গে খেলতে পারেন বোট রাইডের মাধ‍্যমে, আবার যখন ভাটা চলবে সম্ভবত বিকেলের দিকে সমুদ্রের ওপর হেঁটে কিংবা বিশ্রাম নেওয়া নৌকাগুলোর সঙ্গে ছবি তুলে মজা কুড়োতে পারবেন।

    ৹ লাল কাঁকড়া আর মাছ –
    বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে আছেন অথচ লাল কাঁকড়ার সঙ্গে লুকোচুরিই খেললেন না তাহলে তো আপনার সমুদ্র সফর অসম্পূর্ণ মশাই। দূর থেকে রাঙা পলাশ ফুল ছাড়িয়ে আছে দেখবেন বেলাভূমি জুড়ে, কাছে গেলেই হাওয়া – দেখবেন গর্তে লুকিয়ে আপনাকে টুকি করছে
    লাল কাঁকড়াগুলো। ওদের ধরে ছবি তুলতে গিয়ে ওদের বিরক্ত করবেন না। ভালো লেন্স নয়ত চোখের ক‍্যামেরাতেই বন্দি করুন ওদের।

    লাল কাঁকড়ার পাশাপাশি জেলেদের মাছ ধরা, জাল গুটিয়ে বাড়ি ফেরার দৃশ‍্য‌ও আপনাকে সেরা ফটোগ্রাফারের প্রশান্তি দিতে পারে।  আর তারপর সন্ধ‍্যার দিতে এত্ত রকমের সামুদ্রিক মাছের যোগান, মাছ ভাজার গন্ধ আপনাকে এনে দিতে পারে ভূষুন্ডীর মাঠে থাকা সেই মেছোভূতের ফিলিংস।

    ৹ মন্দির –
    এ তো গেল প্রকৃতির সঙ্গে বোঝাপড়া। সঙ্গে যদি বয়স্করা থাকে তাদের নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন চন্দনেশ্বর মন্দির, পৃথিবীর বৃহত্তম শিবলিঙ্গ – ভূষণানন্দেশ্বর মন্দির আর একটু এগিয়ে জালেশ্বরের শিবশক্তি মন্দির।

    কাজেই শিব আর সমুদ্রের বিশালতা একসঙ্গে উপভোগ করতে আসতেই হবে তালসারিতে।

    তালসারি ভ্রমণের প্ল‍্যানে আরো একদিন বাড়িয়ে ঘুরে আসুন কাছেই বিচিত্রপুর থেকে, বিস্তারিত জানুন বিচিত্রপুর ভ্রমণে। 

    ● কীভাবে যাবেন –
    তালসারি বীচের নিকটবর্তী রেল স্টেশন –
    দীঘা, ১০কি.মি দূরে।

    তাই, তালসারি যাবার সহজ পথ হল দীঘা। আপনার পছন্দের যে কোনো মাধ‍্যমে (বাস, ট্রেন, গাড়ি) দীঘা পৌঁছান, ওখান থেকে গাড়িতে ৩০মিনিটের সফরে পৌঁছে যাবেন তালসারি।

    আর যারা বাইকে করে আসতে চান তালসারি বীচে, তারা কোলাঘাট – নন্দকুমার – কাঁথি দিয়ে অথবা বেলদা – এগরা – পানিরুল ধরে দীঘা আসতে পারেন নিজেদের সুবিধামতো।

    কখন যাবেন –
           তালসারি ভ্রমণে যেকোনো সময়েই যেতে পারেন। তবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা যেহেতু তুলনামূলক গরম থাকে তাই গরমকাল এবং কালবৈশাখী ঝড়ের সময় কাটিয়ে যাওয়াই ভালো। আবার গরমকালে গিয়ে গরম এড়াতে হলে এ.সি রুম ভাড়া করাই যায়। তালসারি বীচে পর্যটকরা সাধারণত ভিড় জমায় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত।

    আর চাকুরিজীবীদের জন‍্য তালসারি – দীঘাতোলা থাকে শনিবার, রবিবার কিংবা কোনো ছুটির দিন। তাই ব‍্যবসায়ী মানুষেরা তালসারির মনোরম উপকূলবর্তী পরিবেশ উপভোগ করার জন‍্য বেছে নিতে পারেন সপ্তাহের মাঝের দিনগুলিকে।

    ● কোথায় থাকবেন –
    তালসারি ভ্রমণের প্ল‍্যানে পর্যটকরা বেশিরভাগ সময় রাখেন তালসারি – দীঘা একসঙ্গে। ফলে দীঘাতে হোটেলে থেকে যেকোনো একদিন বেছে নিতেই পারেন তালসারি বীচের জন‍্য। আর যেহেতু দীঘা জনপ্রিয় সমুদ্রসৈকত ফলে সেখানে হোটেল‌ও যেমন প্রচুর তেমনি হোটেলের ভাড়াও সকল পর্যটকদের পছন্দমতো পাওয়া যায়।
    তবে ভ্রমণ গাইডের সাজেশন দীঘা তালসারি ট‍্যুরে দীঘায় থাকতে হলে নিউ দীঘায় হোটেলে থাকা বাঞ্ছনীয়।

    আর যদি দীঘার কোলাহল থেকে নিজেকে দূরে রাখতে থাকতে চান তালসারিতেই, তবে থাকল ভ্রমণ গাইডের পক্ষ থেকে তালসারি বীচের গুটি কয়েক হোটেল ও যোগাযোগ নম্বর –
    ১) OTDC পান্থশালা / পান্থশালা চন্দনেশ্বর –
    অনলাইনে ওদের ওয়েবসাইট থেকে কিংবা মৌলালির উৎকল ভবন থেকে বুকিং করতে পারেন।
    ২) Hotel Shree Inn –
    9614666666 / 8249996260
    ৩) হোটেল সাগরকন‍্যা –
    9777319993 / 7682074477
    ৪) হোটেল সমুদ্রসৈকত –
    9734501903 / 9732518685
    তালসারি বীচে হোটেলভাড়া মাথাপিছু ১২০০ থেকে ৫০০০ এর মধ‍্যে পেয়ে যাবেন।

    ~ ভ্রমণ.গাইড

  • মন্দারমণি ভ্রমণ ~ ভ্রমণ গাইড

    মন্দারমণি ভ্রমণ ~ ভ্রমণ গাইড

    মন্দারমণি সমুদ্রপ্রিয় পর্যটকদের কাছে অত‍্যন্ত প্রিয় সমুদ্রসৈকত। পশ্চিমবঙ্গের বিখ‍্যাত সমুদ্রসৈকত দীঘার পরেই মন্দারমণির স্থান। 

    ● অবস্থান – 

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্বমেদিনীপুর জেলার একটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র মন্দারমণি, বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী একটি সমুদ্রসৈকত। 

    ওল্ড দীঘা থেকে ২৭ কি.মি দূরে অবস্থিত মন্দারমণি সমুদ্রসৈকত। এর নিকটবর্তী  জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রটি হল তাজপুর, যা মন্দারমণি থেকে প্রায় ১০কি.মি দূরে। 

    ● ইতিহাস – 

    মন্দারমণি স্থানটির নাম এসেছে মন্দার গাছ বা মন্দার ফুল থেকে। ফুলগুলি স্থানবিশেষে পারিজাত ফুল নামেও পরিচিত। এটি মাদার গাছের এক বিশেষ প্রজাতি। বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী ওই এলাকায় একসময় মন্দার গাছের জঙ্গল ছিল। গাছগুলি ঝড়ঝঞ্ঝা থেকে মাটিকে রক্ষা করতে পারে। মন্দার গাছের জঙ্গল অর্থাৎ মন্দারবন থেকে স্থানীয় নাম ছিল মন্দারবন অথবা মাদারবন। সেখান থেকে কালক্রমে স্থানটির নাম হয় মন্দারমণি। 

    তবে সভ‍্যতার অগ্রগতি আর উন্নয়নের সঙ্গে পাল্লা দিতে না পারায় এখন আর মন্দারের জঙ্গল তো দূরের কথা মন্দার বা মাদার গাছগুলি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। থেকে গেছে মন্দারমণির ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে মাত্র।

    ● কী কী দেখবেন – 

    যারা দীঘাকে এড়িয়ে সমুদ্রের স্বাদ নিতে চান তাদের কাছে অত‍্যন্ত প্রিয় এই মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতটি। দীঘার নিকটবর্তী বেশ জনপ্রিয় ও ব‍্যয়বহুল সমুদ্রসৈকত মন্দারমণি। 

     প্রকৃতিপ্রেমিক বাঙালি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে সর্বাপেক্ষা উপভোগ‍্য ভোরের মন্দারমণির সমুদ্রের সূর্যোদয়, সমুদ্র সৈকতের বালির ওপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা আর  সৈকতে বালির ওপরে বাঁশের ছাউনি দেওয়া দোকানে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে চায়ের চুমুক দেওয়া।

         কিংবা সন্ধ‍্যায় প্রিয় মানুষের সঙ্গে সমুদ্রের পাশে বসে গরম গরম মাছভাজা খেতে খেতেও উপভোগ করতে পারেন মন্দারমণির সমুদ্রসৈকতটি।

    মন্দারমণি সৈকতের ৫০০মিটারের মধ‍্যে পেয়ে যাবেন লাল কাঁকড়াদের সংসার, যেটা লাল কাঁকড়ার বীচ নামেও পরিচিত। দূর থেকে ওদের সংসারের জীবনযাত্রা উপভোগ করতে পারেন, ভালো লেন্সের ক‍্যামেরায় বন্দি করতে পারেন ওদের বিশেষ মুহূর্তগুলো। কিন্তু কখনোই নিজের মজার জন‍্য ওদের বিব্রত করবেন না। 

    সমুদ্রসৈকতের পাশাপাশি চলে যেতে পারেন পিছাবনী মোহনাতেও, ফিতার মতো মৃতপ্রায় পিছাবনী নদীও কিছুক্ষণের জন‍্য সঙ্গী হতে পারে আপনার। 

    মন্দারমণি সৈকতের দুপাশে ১০ কি.মি দূরে রয়েছে দুটো সমুদ্র সৈকত – সাইপ্রাসে মোড়া জনপ্রিয় তাজপুর সৈকত এবং অপরদিকে ঝাউবনে ঘেরা নির্জন হরিপুর সৈকত। মন্দারমণি থেকে অটো বা টোটো নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন যেকোনো দিকেই। 

    ★ মন্দারমণি ও দীঘা সংলগ্ন এলাকায় ঘোরার জন‍্য ভ্রমণ গাইডের রুট ম‍্যাপ দেখে এলাকাগুলির দূরত্ব বুঝে নিন – দর্শনীয় স্থান

    ● কীভাবে যাবেন – 

          পশ্চিমবঙ্গের অন‍্যতম জনপ্রিয় মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণের জন‍্য আপনি গাড়ি, বাস ট্রেন তিনটি মাধ‍্যম‌ই পেতে পারবেন। 

    ৹ বাস – 

    কলকাতার ধর্মতলা থেকে, হাওড়ার ধূলাগড় থেকে অথবা যেকোনো স্থানের দীঘাগামী বাস ধরে চাউলখোলা মোড়ে নামতে হবে। চাউলখোলা থেকে অটো, টোটো অথবা রিক্সা ধরে মাত্র ৪কি.মি দূরত্ব পেরিয়ে পৌঁছে যাবেন মন্দারমণি সৈকতে। 

    ৹ ট্রেন – 

    মন্দারমণিতে কোনো রেল স্টেশন নেই। মন্দারমণি নিকটবর্তী রেলস্টেশন রামনগর ও কাঁথি। তাই হাওড়া থেকে তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস অথবা কান্ডারী এক্সপ্রেস ট্রেনে রামনগর বা কাঁথিতে নেমে ওখান থেকে গাড়ি বা অটোতে পৌঁছে যাবেন মন্দারমণি সৈকতে। 

    তবে, মন্দারমণি ভ্রমণের জন‍্য আপনি ব‍্যক্তিগত গাড়িও বেছে নিতে পারেন।

     ● কখন যাবেন – 

           মন্দারমণি ভ্রমণে যেকোনো সময়েই যেতে পারেন। তবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা যেহেতু তুলনামূলক গরম থাকে তাই গরমকাল এবং কালবৈশাখী ঝড়ের সময় কাটিয়ে যাওয়াই ভালো। আবার গরমকালে গিয়ে গরম এড়াতে হলে এ.সি রুম ভাড়া করাই যায়। মন্দারমণি ভ্রমণে পর্যটকরা সাধারণত ভিড় জমায় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। 

    আর চাকুরিজীবীদের জন‍্য মন্দারমণি তোলা থাকে শনিবার, রবিবার কিংবা কোনো ছুটির দিন। তাই ব‍্যবসায়ী মানুষেরা মন্দারমণির মনোরম উপকূলবর্তী পরিবেশ উপভোগ করার জন‍্য বেছে নিতে পারেন সপ্তাহের মাঝের দিনগুলিকে। 

    ● কোথায় থাকবেন – 

    মন্দারমণি বীচের হোটেলগুলি তাজপুরের মতো সমুদ্র থেকে দূরে নয়, বরং সমুদ্র নিকটবর্তী। ফলে এর ভালো দিক যেমন আছে, তেমন আছে খারাপদিক‌ও। হোটেল ও রিসর্টগুলির ভাড়া মাথাপিছু প্রায় ১,৫০০ থেকে ৬,০০০টাকার মধ‍্যে। পর্যটকদের সুবিধার জন‍্য এখানে কিছু হোটেল ও রিসর্টের যোগাযোগ নম্বর দেওয়া হল – 

    ১) রামকৃষ্ণ বিবেকানন্দ মিশন

    8116793234/ 8768435247

    ২) দিগন্ত রিসর্ট – 9903668289

    ৩) শঙ্খবেলা রিসর্ট – 9836573849

    ৪) হোটেল ময়ঙ্ক – 8926757166

    ৫) নিরালা হোটেল – 9933064420

    ৬) সাগরিকা হোমস্টে – 9732723549

    ৭) শান্তিনিকেতন রিসর্ট – 9475876405

    ৮) রিসর্ট প্রান্ততীর্থ – 9800437710

    ৯) সাগরসঙ্গম হোমস্টে – 7001231132

    ১০) Backpackers Camp – 

    7980514477 / 9836505038

    ১১) Sher Bengal Beach Resort – 

    9735841584 / 9932495959

    ১২) Candlewood Park Beach Resort –

          9635420140

    ১৩) Suncity Resort – 033 – 4025 1111

    ১৪) Golden Sea Queen Beach Resort

          7042424242

    ১৫) Sunview Resort – 9831632589

    ১৬) Aqua Marina Drive Inn – 

          9674210437

    ১৭) Resort Priya jeet – 9830030679

    ১৮) Hotel Royal Heritage – 9830574403

    ১৯) Samudra bilas Resort –        8405966777

    ★ হোটেলগুলি থেকে সমুদ্রের দূরত্ব ও হোটেল ভাড়া সম্পর্কে জানুন – 

    ● প্রয়োজনীয় সতর্কতা – 

    মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতকে আকর্ষণীয় করে তোলার জন‍্য বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টস এবং প‍্যারাসাইলিং এর ব‍্যবস্থা আছে, যা বিভিন্ন সময় পর্যটকদের প্রাণঘাতীর কারণ হয়েছে। তাই এগুলো থেকে দূরে থাকাই ভালো। 

    ঘুরে বেড়ানোকে উপভোগ করতে অনেকেই মদকে সঙ্গী করে নেন, যা কিনা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন দূর্ঘটনা ও অসম্মানজনক পরিস্থিতির তৈরি করে। তাই মদ এবং মদ‍্যপ ব‍্যক্তিদের থেকে দূরে থাকাই ভালো। আর মদের নেশায় নয় প্রকৃতির নেশায় সমুদ্রকে উপভোগ করাই বাঞ্ছনীয়। 

    মনে রাখবেন সমুদ্রের ক্ষমতা ও উদারতা দুইই বিশাল, তাই বারংবার সমুদ্রের ক্ষমা পেয়ে তার ওপর অত‍্যাচার করতে থাকলে একবারের ক্ষমতা আপনাকে ধূলিসাৎ করে দিতে পারে। তাই প্রকৃতিকে ভালোবেসে তারমতো করে তাকে উপভোগ করাই শ্রেয়।

  • তাজপুর ভ্রমণ ~ ভ্রমণ গাইড

    তাজপুর ভ্রমণ ~ ভ্রমণ গাইড

    তাজপুর বাঙালির অন‍্যতম প্রিয় একটি সমুদ্র সৈকত। ভ্রমণপিপাসু বাঙালির বর্তমানে অন‍্যতম আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠেছে এই তাজপুর সমুদ্র সৈকত। 

    ● অবস্থান – 

    পশ্চিমবঙ্গের পূর্বমেদিনীপুর জেলার একটি সমুদ্রসৈকত তাজপুর। সমুদ্রসৈকতটি বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। 

    পশ্চিমবঙ্গের অন‍্যতম পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমণি ও শঙ্করপুরের মাঝে অবস্থিত এই তাজপুর সমুদ্রসৈকতটি। 

    তাজপুরের নিকটবর্তী রেলস্টেশন রামনগর। কলকাতা থেকে যার দূরত্ব প্রায় ১৮০কি.মি। আর পশ্চিমবঙ্গের সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র দীঘার থেকে তাজপুর সমুদ্র সৈকতের দূরত্ব মাত্র ১৭কি.মি। 

    ● কী কী দেখবেন – 

    দীঘার থেকে তুলনামূলক কম জনপ্রিয় এই তাজপুর বীচটি। তাই যারা একটু নির্জন সৈকতে সমুদ্রকে উপভোগ করতে চান তাদের জন‍্য অন‍্যতম আদর্শ পর্যটনকেন্দ্র এই তাজপুর। 

    তাজপুর সমুদ্র সৈকতের পাশে সাইপ্রাস ফরেস্ট ও পর্যটনদের বেশ নজর কাড়ে। গাছপাগল বাঙালি তো বটেই, সেলফি বা ছবি তুলতে কিংবা নিরিবিলিতে নিজেদের মধ‍্যে সময় কাটাতে ঘুরতেই পারেন সমুদ্রের ধারে এই সাইপ্রাসের জঙ্গলে। 

       মাত্র ২কি.মি দূরে রয়েছে চাঁদপুর সমুদ্র সৈকতটি। ইচ্ছে হলে প্রিয়জনদের সঙ্গে সমুদ্রকে পাশে রেখে হাঁটতে হাঁটতে ঘুরে আসতে পারেন এই চাঁদপুর বীচটিতে। 

    এছাড়া, তাজপুরে পর্যটনদের আকর্ষণে প্রকৃতি পর্যটন কেন্দ্র ও পরিস্কার সমুদ্রে পিসিকালচার‌ অন‍্যতম দর্শনীয় স্থান হয়ে উঠেছে। 

    তবে, প্রকৃতিপ্রেমিক বাঙালি ভ্রমণপিপাসুদের কাছে উপভোগ‍্য হয়ে উঠবে ভোরের তাজপুর সমুদ্রের সূর্যোদয়, সমুদ্র সৈকতের বালির ওপর লাল কাঁকড়ার আনাগোনা আর জলধা সৈকতে বালির ওপরে বাঁশের ছাউনি দেওয়া দোকানে বসে সমুদ্র দেখতে দেখতে চায়ের চুমুক দেওয়া।

    এছাড়া, তাজপুর সৈকতের দুইপাশে রয়েছে দুটি পর্যটন কেন্দ্র মন্দারমনি, ১০কি.মি দূরে ও শঙ্করপুর ৩কি.মি দূরে। মাছের লোভে শঙ্করপুর আর কেনাকাটার জন‍্য মন্দারমণি ঘুরেই আসতে পারেন। 

    ★ দীঘা ও পাশ্ববর্তী এলাকায় ঘোরার জন‍্য ভ্রমণ গাইডের রুট ম‍্যাপ দেখে এলাকাগুলির দূরত্ব বুঝে নিন – দীঘার দর্শনীয় স্থান

    ● কীভাবে যাবেন – 

    পশ্চিমবঙ্গের অন‍্যতম জনপ্রিয় তাজপুর সমুদ্রসৈকতে ভ্রমণের জন‍্য আপনি গাড়ি, বাস ট্রেন তিনটি মাধ‍্যম‌ই পেতে পারবেন। 

    ৹ বাস – 

    কলকাতার ধর্মতলা থেকে, হাওড়ার ধূলাগড় থেকে অথবা যেকোনো স্থানের দীঘাগামী বাস ধরে বালিসাই মোড়ে নামতে হবে। বালিসাই থেকে অটো, টোটো অথবা রিক্সা ধরে পৌঁছে যাবেন তাজপুর সৈকতে। 

    ৹ ট্রেন – 

    তাজপুরে কোনো রেল স্টেশন নেই। তাজপুরের নিকটবর্তী রেলস্টেশন রামনগর। তাই হাওড়া থেকে ট্রেনে রামনগর নেমে ওখান থেকে গাড়ি বা অটোতে পৌঁছে যাবেন তাজপুরে। 

    তবে তাজপুর ভ্রমণের জন‍্য আপনি ব‍্যক্তিগত গাড়িও বেছে নিতে পারেন।

    ● কখন যাবেন – 

    তাজপুর ভ্রমণে যেকোনো সময়েই যেতে পারেন। তবে সমুদ্র তীরবর্তী এলাকা যেহেতু তুলনামূলক গরম থাকে তাই গরমকাল কাটিয়ে যাওয়াই ভালো আর তারপরও যেতে হলে এসি রুম নিয়ে নিন ।  তাজপুর ভ্রমণে পর্যটকরা সাধারণত ভিড় জমায় সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত। 

    আর চাকুরিজীবীদের জন‍্য তাজপুর তোলা থাকে শনিবার, রবিবার কিংবা কোনো ছুটির দিন। তাই ব‍্যবসায়ী মানুষেরা তাজপুরের মনোরম পরিবেশ উপভোগ করার জন‍্য বেছে নিতে পারেন সপ্তাহের মাঝের দিনগুলিকে। 

    ● কোথায় থাকবেন – 

    তাজপুরে হোটেল পাবেন না, সমুদ্র তীরবর্তী কোনো থাকার জায়গা নেই। তবে অবশ‍্য‌ই বেশ কিছু রিসর্ট আছে তাজপুর সমুদ্র থেকে অনতিদূরেই, যেখান থেকে পায়ে হেঁটে অথবা টোটো নিয়ে পৌঁছে যেতে পারেন তাজপুর বীচে। রিসর্টগুলিতে রুম ভাড়া মাথাপিছু ১৫০০ – ৩০০০ এর মধ‍্যে পেয়ে যাবেন। 

     সুবিধার জন‍্য কিছু রিসর্ট ও তার ফোন নম্বর দেওয়া হল – 

    ১) Lake view resort – ৯০৮৩২৭৭২৫৫

    ২) মল্লিকা রিসর্ট – ৯৬৭৪৭৬০৯৪২

    ৩) প্রতীকা রিসর্ট – ৯৮৮৩২৬৬০৬৩

    ৪) রিসর্ট অবসর – ৯৭৩৩৭৪৫৩১৯/

         ৯৩২৬৬৪৮২৫৪

    ৫) স্পন্দন রিসর্ট – ৯৮৩০২৪০৬৫২/

    ৯৮৩০১৩৫৭৩৬

    ৬) কৃষ্টি রিসর্ট – ৮৩৩৬৯৩৪০৯০

    ৭) moon view – ৯০৫১৩৩০২৪৮

    ৮) La plage resort – ৯০০৭০৭৭৯৯৯

    ● সতর্কতা – 

    ৹ যেহেতু তাজপুর তুলনামূলক নির্জন সৈকত, তাই দোকানপাট প্রায় নেই বললেই চলে। তাই টুকটাক চা ছাড়া খাবারের জন‍্য আপনাকে মূলত রিসর্টগুলোর প‍্যাকাজের ওপরেই নির্ভর করতে হবে। 

    তবে সমুদ্রের পাশে কাঁকড়া ও কিছু মাছের দোকান পেয়েই যাবেন। 

    কিন্তু ঘরসাজানোর কেনাকাটার জন‍্য কোনো দোকান তাজপুরে পাবেন না। 

    ৹ তাজপুর নির্জন হ‌ওয়ায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাবার প্রবণতা বেশি আর মদের দোকানের বাহুল‍্য‌ও। তাই মদ, মদের দোকান এবং মদ‍্যপ ব‍্যক্তি থেকে সতর্ক থাকাই বাঞ্ছনীয়। 

    ৹ এছাড়া, সৈকতে গাড়ি চালানো, মদ‍্যপ অবস্থায় রোমাঞ্চকর কিছু করার নেশা এবং সন্ধ‍্যায় একা সমুদ্র যাপন থেকে বিরত থাকাই ভালো।  

    প্রকৃতিকে নষ্ট করে নয়, প্রকৃতিকে উপভোগ করতে ঘুরে আসুন লাল কাঁকড়া, সাইপ্রাসের দেশ তাজপুরে আর এই ধরণের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের খুঁটিনাটা জানতে সঙ্গে রাখুন ভ্রমণ.গাইড

  • নিউ দীঘার হোটেল ভাড়া ~ ভ্রমণ গাইড

    নিউ দীঘার হোটেল ভাড়া ~ ভ্রমণ গাইড

    ★ দীঘার হোটেল ভাড়া –

    ● নিউ দীঘা –
    ◆ কাছে ( সী বীচ থেকে ৬০০মিটারের মধ‍্যে)
    ১) বিপাশা গেস্ট হাউস (১০০০ – ১,৫০০)
    ২) হোটেল প্রিয়দর্শিনী (১,০০০ – ১,৫০০)
    ৩) হোটেল রূপকথা ( ১,০০০ – ১,৫০০)
    ৪) Hotel Sun Inn (১,২০০ – ১,৭০০)
    ৫) Hotel Sweet Home (১,২০০ – ১,৭০০)
    ৬) হোটেল বিদিশা (১৭,০০ – ২,২০০)
    ৭) Hotel Classic Inn (১,৭০০ – ২,০০০)
    ৮) Hotel New Classic Inn (১,৮০০ – ২,৩০০)
    ৯) হোটেল কমলা রেসিডেন্সি ( ২,০০০ – ২,৫০০)
    ১০) হোটেল মেঘবালিকা (২,০০০ – ২,৫০০)
    ১১) H. Dayal International (২,৩০০ – ২,৮০০)
    ১২) H. Marine Park (২,৩০০ – ২,৮০০)
    ১৩) H. পবিত্র যমুনা (২,৪০০ – ২,৯০০)
    ১৪) H. Raj Palace (২৪০০ – ২৯০০)
    ১৫) H. Park Point (২৫০০ – ৩০০০)
    ১৬) H. J. C International (২৫০০ – ৩০০০)
    ১৭) H. Parina Hightide ( ২৫০০ – ৩০০০)
    ১৮) Abhyagama Hotel (২৬০০ – ৩১০০)
    ১৯) H. অনন‍্যা (৩,০০০ – ৩,৫০০)
    ২০) H. সাগরপ্রিয়া (৩,০০০ – ৩,৫০০)
    ২১) H. J.P (৩,০০০ – ৩,৫০০)
    ২২) H. অম্বালিকা (৩,৩০০ – ৩,৮০০)
    ২৩) H. মিলি ( ৩,৪০০ – ৩,৯০০)
    ২৪) H. ডালটিন (৩,৮০০ – ৪,৩০০)
    ২৫) Cygnett Inn Sea View (৪,৬০০ – ৫,১০০)
    ২৬) H. রূপসী বাংলা ( ৫,৫০০ – ৬,০০০)
    ২৭) H. আস্থা 2 (৬,০০০ – ৬,৫০০)

    ◆ দূরে ( সীবীচ থেকে ৬০০ মি. – ১.৫ কিমির মধ‍্যে)
    ১) Raja Holiday Inn (৪০০ – ৯০০)
    ২) H. Kalianana (৪০০ – ৯০০)
    ৩) Prantik residency (৫০০ – ১০০০)
    ৪) মিলন গেস্ট হাউস (৬০০ – ১১০০)
    ৫) ছবিঘর (৬০০ – ১১০০)
    ৬) Mir Residency (৬০০ – ১১০)
    ৭) Ayush International (৬০০ – ১১০০)
    ৮) H. আস্থা (৬০০ – ১১০০)
    ৯) বলাকা গেস্ট হাউস (৬০০ – ১১০০)
    ১০) সন্ধ‍্যা গেস্ট হাউস (৭০০ – ১২০০)
    ১১) H. অন্নপূর্ণা (৭০০ – ১২০০)
    ১২) মুস্কান গেস্ট হাউস (৭০০ – ১২০০)
    ১৩) H. Ruksar (৭০০ – ১২০০)
    ১৪) H. Greenland Inn (৭০০ – ১২০০)
    ১৫) Cozy Inn (৭০০ – ১২০০)
    ১৬) H. বিদিশা 2 (৭০০ – ১২০০)
    ১৭) H. মামনি (১০০০ – ১,৫০০)
    ১৮) বন্ধন ইন (১,১০০ – ১,৬০০)
    ১৯) H. S. S International (১,১০০ – ১৬০০)
    ২০) সন্ধ‍্যা গেস্ট হাউস (১,১০০ – ১,৬০০)
    ২১) Venus Ho (১,২০০ – ১,৭০০)
    ২২) H. অভীপ্সা (১,২০০ – ১,৭০০)
    ২৩) Hotel Marlin (১,৪০০ – ১,৯০০)
    ২৪) Hotel Green Gate (১,৫০০ – ২,০০০)
    ২৫) Hotel Orbit O (১,৬০০ – ২,১০০)
    ২৬) Hotel Coral (১,৭০০ – ২,১০০)
    ২৭) M. Jack International (১,৮০০ – ২,৩০০)
    ২৮) H. Saranjali ( ২,১০০ – ২,৬০০)
    ২৯) H. শান্তিনিকেতন (২,১০০ – ২,৬০০)
    ৩০) অনিরুদ্ধ গেস্ট হাউস (৫,০০০ – ৫,৫০০)

  • দীঘার দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণ গাইড

    দীঘার দর্শনীয় স্থান – ভ্রমণ গাইড

    ★ সুবর্ণরেখা নদী মোহনা (ওল্ড দীঘা থেকে ২১ কি.মি)
    ১) চন্দ্রাবলী বীচ
    ২) সুবর্ণ আইল‍্যান্ড
    ৩) ভূষণানন্দশ্বর মন্দির (পৃথিবীর বৃহত্তম শিবমন্দির)
    ৪) শিবশক্তি মন্দির (জালেশ্বর)

    ★ তালসারি (ওল্ড দীঘা থেকে ১০ কি.মি)-
    ১) তালসারি বীচ
    ২) তালসারি ঝাউবন
    ৩) তালসারি লাল কাঁকড়া বীচ
    ৪) চন্দনেশ্বর মন্দির

    ★ উদয়পুর (ওল্ড দীঘা থেকে ৪ কি.মি) –

    ★ নিউ দীঘা (ওল্ড দীঘা থেকে ৩ কি.মি) –
    ১) জাতীয় বিজ্ঞান প্রত্নশালা
    ২) সামুদ্রিক সংগ্রহশালা
    ৩) অমরাবতী পার্ক, সর্প উদ‍্যান
    ৪) ঢেউসাগর
    ৫) কাজল দীঘি
    ৬) সায়েন্স সেন্টার পার্ক
    ৭) রাষ্ট্রীয় কাজুবাদাম উদ‍্যান

    ★ ওল্ড দীঘা –
    ১) র‍্যানস‌উইক হাউস ( বিদ‍্যুৎ দপ্তর)
    ২) দীঘা গেট
    ৩) ওশিয়ানিয়া
    ৪) জগন্নাথ দেব মন্দির
    ৫) ভেষজ উদ‍্যান
    ৬) ইন্টারন‍্যাশানাল সী বীচ পার্ক
    ৭) বিশ্ব বাংলা পার্ক
    ৮) মেরিন অ্যাকোরিয়াম
    ৯) ফিস মার্কেট
    ১০) চম্পা নদী

    ★ শঙ্করপুর (ওল্ড দীঘা থেকে ১৪কিমি) –
    ১) শঙ্করপুর সৈকত
    ২) শঙ্করপুর মৎস‍্যবন্দর
    ৩) মা গঙ্গা মন্দির

    ★ চাঁদপুর (ওল্ড দীঘা থেকে ১৫ কি.মি) –

    ★ তাজপুর (ওল্ড দীঘা থেকে ১৭ কি.মি) –
    ১) তাজপুর মোহনা
    ২) তাজপুর সাইপ্রাস ফরেস্ট

    ★ মন্দারমণি (ওল্ড দীঘা থেকে ২৭ কি.মি) –
    ১) মন্দারমণি সীবীচ

    ২) পুরুষোত্তমপুর বীচ

    ৩) পিছাবনী মোহনা

    ★ হরিপুর (ওল্ড দীঘা থেকে ৩৭ কি.মি) –
    ১) হরিপুর সীবীচ
    ২) হরিপুর ঝাউবন

    ★ জুনপুট (ওল্ড দীঘা থেকে ৪০ কিমি) –
    ১) জুনপুট সমুদ্র সৈকত
    ২) মৎস‍্য গবেষণাকেন্দ্র

    ★ কান্দুয়া সীবীচ (ওল্ড দীঘা থেকে ৪১ কি.মি)

    ★ বাঁকিপুট সৈকত (ওল্ড দীঘা থেকে ৪৬ কি.মি)

    ★ খেজুরি (ওল্ড দীঘা থেকে ৬০ কি.মি) –
    ১) খেজুরি সমুদ্র সৈকত
    ২) হুগলী নদী মোহনা

    ~ ভ্রমণ.গাইড

    আরো পড়ুন – দীঘার ইতিহাস

  • দিঘার ইতিহাস 

    দিঘার ইতিহাস 

    দিঘার সমুদ্র সৈকত জীবনে অন্তত একবার ঘুরে আসেননি এমন বাঙালি খুবই বিরল । দিঘা শুধু ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির কাছেই প্রিয় এমন নয় , ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্যেকের ইচ্ছা থাকে অন্তত একবার দিঘা ঘুরে আসা । ইংরেজ শাসনে ইংরেজদের কাছেও বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র সৈকতটি বেশ পছন্দের ছিল । বছরের পর বছর পরদেশে থাকা ইংরেজ অফিসাররা বউ ছেলে মেয়ে নিয়ে দিঘার সমুদ্রের হাওয়া খেয়ে আসতেন , তারা দিঘাকে বলতেন ব্রাইটন অফ ক্যালকাটা । আসুন আমরাও টাইম মেশিনে চেপে দিঘার ইতিহাস জেনে আসি । 

    দিঘার আবিষ্কার – 

    ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সাহায্যে ১৭৬০ খ্রিষ্টাব্দে মীর কাসিম বাংলা-বিহার-উড়িষ্যার নবাব হন । মীর কাসিম নবাব হয়ে মেদিনীপুরের অধিকার ইস্ট ইন্ডিয়াকে ছেড়ে দেন । তখন মেদিনীপুর একটি চাকলা ছিল , চাকলা অনেকটা বর্তমান সময়ের জেলার মতো , তবে জেলা থেকে অনেক বড়  । মেদিনীপুর চাকলাতে ৫৪টি পরগনা ছিল । পরগনা আজকালকার সাব ডিভিশন বা উপজেলার মতো । ৫৪টি পরগনার সমুদ্র উপকূলবর্তী পরগনাটির নাম ছিল বীরকুল পরগনা । বীরকুল পরগনার সমুদ্র উপকূলবর্তী একটি অখ্যাত গ্রাম ছিল দিঘা । ১৭৬০ সালে মেদিনীপুরের সাথে দিঘা গ্রামেরও অধিকার ইস্ট ইন্ডিয়ার কোম্পানির কাছে চলে আসে । 

    ১৭৬৭ সালে কোন এক গরমের দিনে ওয়ারেন হেস্টিংস হাতির পিঠে চেপে উড়িষ্যা থেকে কোলকাতা ফিরছিলেন । ফেরার পথে বীরকুলের দিঘা গ্রামে তিনি বিশ্রাম নেন । ঝাউ ও নারিকেল বনে ঘেরা দিঘার সমুদ্র সৈকত তার খুব ভালো লেগে যায় । বঙ্গোপসাগরের ঠাণ্ডা বাতাস তার সব ক্লান্তি দূর করে দেয় , অনেকদিন পর নিজের জন্মভূমি ব্রাইটনের কথা মনে পরে যায় , হেস্টিংসের মুখ দিয়ে অজান্তেই বেরিয়ে আসে – ব্রাইটন অফ ক্যালকাটা । 

    এরপর ওয়ারেন হেস্টিংস ভারতের প্রথম গর্ভনর জেনারেল হওয়ার পর ১৭৭৫ খ্রিস্টাব্দে আবার দিঘা ফিরে আসেন ও নিজের জন্য একটি বাংলো তৈরি করেন । তারপর ইংরেজ অফিসারদের সপরিবারে ছুটি কাটানোর জন্য আরো কয়েকটি বাংলো বাড়ি তৈরি করা হয় । বীরকুলের অখ্যাত গ্রাম দিঘার সমুদ্র সৈকত পরিচিত হতে থাকে ব্রাইটন অফ ক্যালকাটা নামে । 

    দিঘার প্রথম নাগরিক – 

    ওয়ারেন হেষ্টিংস ও কিছু ইংরেজ অফিসারের কাছে দিঘা গ্রামের সমুদ্র সৈকত ব্রিটেন অফ ক্যালকাটা নামে পরিচিত হলেও খুব বেশি জনপ্রিয়তা পায়নি তখনও , এর অন্যতম কারন কলকাতা থেকে দিঘা যাওয়ার পথ ছিল বেশ দূর্গম । পথে রূপনারায়ণ নদ, হলদি নদী ও রসুলপুর নদীর মতো বড় নদীতে কোন ব্রিজ না থাকায় দিঘা যাওয়া ছিল অনেক সময়ের ব্যাপার , কলকাতা থেকে দিঘা পৌঁছাতে দুই তিন দিন লেগে যেত । 

    অন্যদিকে দিঘার সমুদ্র ক্ষয়কারী চরিত্রের –  মানে দিঘার সমুদ্র সৈকতে সমুদ্রের অগ্রগামী তরঙ্গের তুলনায় বিপরীত তরঙ্গ বেশি শক্তিশালী । প্রতি ঢেউয়ে যে পরিমাণ বালি সমুদ্রতটে জমা হয় বিপরীত ঢেউয়ে তার থেকে বেশি বালি তট থেকে সমুদ্রে চলে যায় । এর ফলে দিঘার সমুদ্র ধীরে ধীরে দিঘা গ্রামকে গ্রাস করতে থাকে , দিঘাও তার জনপ্রিয়তা হারাতে থাকে । 

    দেড়শ বছর পরে কলকাতার বিখ্যাত ব্যবসায়ী হ্যামিলটন অ্যান্ড কোম্পানির মালিক ভ্রমণপ্রিয় ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ ওয়ারেন হেস্টিংসের আমলের পুরানো নথিপত্র ঘেঁটে সৈকত গ্রাম দিঘার কথা জানতে পারেন । দিঘার নিকটবর্তী বালিসাইয়ের জমিদার ছিলেন তার একজন কাস্টমার । বালিসাইয়ের জমিদারের কাছেও দিঘার সমুদ্রসৈকতের কথা শোনেন । ১৯২৩ সালের আর একটি গরমের দিনে ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ তার নিজের ওভারল্যান্ড গাড়িতে চড়ে বেলডা যান , বেলডা থেকে ঘোড়ায় কাঁথি , কাঁথি থেকে বালিসাইয়ের জমিদারের হাতিতে চেপে দিঘা পৌঁছান । দিঘাতে ওয়ারেন হেস্টিংসের বাংলোবাড়ি ততোদিনে সমুদ্রের তলায় , আরো যে বেশ কয়েকটি বিশ্রামাগার তৈরি করা হয়েছিল সবই ভগ্নস্তুপে পরিণত হয়েছে । 

    ওয়ারেন হেস্টিংসের মতো প্রকৃতিপ্রেমী ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথেরও দিঘার সমুদ্রসৈকত ভালো লেগে গেল । ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ তাঁবু খাটিয়ে কয়েকদিন দিঘার সৈকত উপভোগ করে কলকাতা ফিরে এলেন । প্রকৃতিপ্রেমী ফ্র্যাঙ্ক কলকাতায় এসে দিঘার সমুদ্র সৈকতে ৩৫ বিঘা জমি লিজ নেন , এরপর সেই জমিতে ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ তার স্বপ্নের বাড়ি রানসউইক হাউস তৈরি করেন , তিনি বছরের ছয় মাসই রানসউইক হাউসে বসবাস করতেন । প্রকৃতিপ্রেমী ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথই সৈকত সুন্দরী দিঘার প্রথম নাগরিক । 

    সৈকত নগরী দিঘার রূপায়ণ – 

    ভারতবর্ষ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৪৮ সালে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিতীয় মুখ্যমন্ত্রী হন বিধানচন্দ্র রায় । ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ বিধানচন্দ্র রায়কে দিঘাতে সৈকত নগরী গড়ে তোলার আবেদন করেন । দিঘাতে একে একে সৈকতাবাস, রাস্তাঘাট, জলসরবরাহ ব্যবস্থা , হোটেল , স্বাস্থ্যকেন্দ্র গড়ে ওঠে ।  বিধান চন্দ্র রায় কলকাতা থেকে দিঘার যাতায়াত পথ ভালো করেন , পিছাবনি খালের উপর ব্রিজ তৈরি করেন ফলে দিঘা যাওয়া আরো সহজ হয় । ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ সব দায়িত্ব সরকারের উপর ছেড়ে দেননি , দিঘাকে সৈকত নগরী তৈরি করতে তিনিও নিরলস পরিশ্রম করে যান । বেহালা ফ্লাইয়িং ক্লাব থেকে নিয়মিত পাইপার প্লেনে করে দিঘাতে আসতেন । নাড়জোলার রাজার সাহায্যে তিনি দিঘাতে স্কুল তৈরি করেন । ১৯৬৪ সালে দিঘার রূপকার ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ মারা যান , তার তৈরি রানসউইক হাউসেই তাকে কবর দেওয়া হয় । ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথের মৃত্যুর পর রানসউইক হাউস রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ কিনে নিয়ে অতিথিশালাতে পরিণত করে । 

    এরপর দিঘা যাওয়ার রাস্তা যত ভালো হতে থাকে দিঘার সমুদ্র সৈকত তত জনপ্রিয় হতে থাকে । হলদি নদী, রসুলপুর নদীর উপর ব্রিজ তৈরি হলে কলকাতা থেকে দিঘা বাস পরিষেবা শুরু হয় । ২০০৪ সালের ৩১ সে ডিসেম্বর হাওড়া থেকে দিঘা রেল পরিষেবা শুরু হয় । সৈকত নগরী দিঘা বাঙালির কাছে সপ্তাহান্তের ভ্রমণস্থান হয়ে ওঠে । 

    আবার যখন দিঘা যাবেন , ওল্ড দিঘাতে রানসউইক বাংলোতে একবার ঢুঁ মেরে আসবেন , দেখবেন প্রকৃতিপ্রেমী বুড়ো ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ প্রকৃতির কোলে এখনও শুয়ে আছেন , একটু ভালো করে শুনতে চেষ্টা করবেন নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাবেন – বুড়ো ফ্র্যাঙ্ক স্নেইথ নিঃশ্বাস নিচ্ছেন – নিঃশ্বাস মিলে যাচ্ছে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের সাথে ।

    আরো পড়ুন – দীঘা কি কি দেখবেন ?